top of page

পানি নেই তো জীবন নেই: ডিবিএল গ্রুপের পানি সাশ্রয়ের কার্যক্রম

Umme Abiha Saima

Screenshot 2024-12-10 at 12.09.50.png

পৃথিবীর প্রায় ৭১% অংশই পানি দ্বারা আবৃত, আর মানুষের শরীরের প্রায় ৫০% থেকে ৬৫% পর্যন্ত পানি—শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ৭৮% পর্যন্ত হতে পারে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বলেছেন, “পানি হলো প্রকৃতির সব শক্তির চালিকাশক্তি।” সত্যিই, জীবনের জন্য পানির গুরুত্ব অপরিসীম।

টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে পানির ব্যবহার অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে কাপড় রং করা (dyeing) ও ফিনিশিং প্রক্রিয়ায়। International Finance Corporation (IFC)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প প্রতি বছর প্রায় ১,৫০০ বিলিয়ন লিটার ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে, যার বড় অংশই পরে বর্জ্য পানিতে পরিণত হয়ে ফিরে যায়। মাত্র ১ কেজি কাপড় রং করতেই প্রায় ২০০ লিটার পানি লাগতে পারে। ফলে, দৈনিক ৯০ টন উৎপাদনক্ষম একটি কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ মিলিয়ন লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহৃত হতে পারে। এদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর প্রায় ১ থেকে ২ মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—“ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?”

ডিবিএল গ্রুপের পানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ:

২০১০ সাল থেকেই ডিবিএল গ্রুপ কাপড়ের ১ কেজি রং করার ক্ষেত্রে ২০০ লিটারের পরিবর্তে প্রায় ১২০ লিটার পানি ব্যবহার করছিল। তবে এটি এখনও একটি বড় পরিমাণই ছিল। এই পরিস্থিতিতেই ডিবিএল গ্রুপ ২০১০ সালে H&M-এর সরবরাহকারী হিসেবে International Finance Corporation (IFC)-এর “Cleaner Production (CP)” প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে Puma-এর সরবরাহকারী হিসেবে তারা IFC-এর “Partnership for Cleaner Textile (PaCT)” প্রোগ্রামেও যুক্ত হয়।

প্রাথমিক বিশ্লেষণের পর পানি সাশ্রয়ের বেশ কিছু দিক চিহ্নিত করা হয়। বিদ্যমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ডিবিএল গ্রুপ যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে তার মধ্যে রয়েছে—

  • এমন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা, যা গড়ের তুলনায় প্রায় ৫০% কম পানি ব্যবহার করে

  • এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা, যা কম পানির প্রয়োজন হয় এবং ফলে কাপড়ের প্রতি কেজিতে পানির ব্যবহার ১২০ লিটার থেকে কমে ৫৫ লিটারে নেমে আসে

  • লিক হওয়া ট্যাপ মেরামত করা এবং ব্যবহার শেষে পানি বন্ধ করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করা

  • সাধারণ পানির ট্যাপের পরিবর্তে এয়ারেটর (aerator) যুক্ত ট্যাপ স্থাপন করা

  • একক ফ্লাশ সিস্টার্নের পরিবর্তে ডুয়াল ফ্লাশ সিস্টার্ন ব্যবহার করা

  • বয়লারের গরম পানি পুনরায় ব্যবহার করা

এছাড়া পানির ব্যবহার আরও কমাতে যথাযথ ময়েশ্চার ম্যানেজমেন্ট (moisture management) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তদুপরি, উইকিং (wicking) ফিনিশিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোফোবিক (পানি প্রতিরোধী) কাপড়, যেমন পলিয়েস্টার, কে হাইড্রোফিলিক (পানি শোষণকারী) কাপড়ে রূপান্তর করা হয়। হাইড্রোফিলিক কাপড় পানি সহজে শোষণ করতে পারে, ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

ফলাফল

সম্পদ সাশ্রয় ও পানির নির্গমন হ্রাস

ডিবিএল গ্রুপ পানি, রং (dye) এবং রাসায়নিকের ব্যবহার কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১০ সাল (Cleaner Production বা CP প্রোগ্রাম শুরুর আগে) থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উৎপাদন ৭৪.৪৪% বৃদ্ধি পেলেও কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য দক্ষতা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ে প্রতি কেজি কাপড় প্রক্রিয়াকরণে পানির ব্যবহার ১২০ লিটার থেকে কমে ৫৫ লিটারে নেমে আসে। একইসঙ্গে রং ও রাসায়নিকের ব্যবহারও ৫৪০ গ্রাম থেকে কমে ৪১৭ গ্রামে হ্রাস পায়।

আমরা পানি, রং (dye) এবং রাসায়নিকের ব্যবহার কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। ২০১০ সাল (Cleaner Production বা CP প্রোগ্রাম শুরুর আগে) থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত, উৎপাদন ৭৪.৪৪% বৃদ্ধি পেলেও কোম্পানিটি দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ে প্রতি কেজি কাপড় প্রক্রিয়াকরণে পানির ব্যবহার ১২০ লিটার থেকে কমে ৫৫ লিটারে নেমে আসে। একইভাবে রং ও রাসায়নিকের ব্যবহার ৫৪০ গ্রাম থেকে কমে ৪১৭ গ্রামে কমে যায়।

২০২২ সালের মধ্যে ডিবিএল গ্রুপ আরও সম্পদ সাশ্রয় নিশ্চিত করে। এই সময়ে বছরে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ১.৪ মিলিয়ন ঘনমিটার, পানির ব্যবহার ৩১৬,৩৮৭ ঘনমিটার এবং রাসায়নিকের ব্যবহার ৪১১ টন কমানো সম্ভব হয়। এই উদ্যোগগুলো ডিবিএল গ্রুপের টেকসই উন্নয়ন ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এগুলো নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

Screenshot 2026-04-17 at 12.55.54.png
কমিউনিটির উপর প্রভাব
Screenshot 2024-12-10 at 11.55.51.png

Cleaner Production (CP) প্রোগ্রামের প্রাথমিক ধাপের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডিবিএল গ্রুপের ফ্যাব্রিক থেকে পানির অনুপাত ১:৫৫। CP প্রোগ্রাম এবং ডিবিএল-এর নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে ২০১৬ সালে এক বছরে ১.২২ বিলিয়ন লিটার পানি এবং ২.৪ মিলিয়ন কিলোগ্রাম রং (dyes) ও রাসায়নিক সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এই পানিসাশ্রয় কাশিমপুরের প্রায় ১৩,৯২৭টি পরিবারের দৈনিক প্রয়োজন (প্রতি পরিবারে ২৪০ লিটার পানি ধরে) মেটাতে সক্ষম হয়েছে। রং ও রাসায়নিক সাশ্রয়ের ফলে পরিবেশে কম পরিমাণ বর্জ্য পানি ও দূষিত তরল নির্গত হয়েছে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়তা করেছে।

ডিবিএল বিশ্বাস করে—“ভাগাভাগি করলে আনন্দ বাড়ে” (Sharing is caring) এবং “ব্যক্তিগত ভালো থাকার চেয়ে সম্মিলিত ভালো থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ” (Collective goodness is better than individual goodness)। এই বিশ্বাস থেকেই ডিবিএল কোনাবাড়ি এলাকার অন্যান্য কারখানাগুলোর মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করছে। বিভিন্ন কারখানার মধ্যে সেরা চর্চাগুলো (best practices) নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে সবাই মিলেই সমাজে একটি ইতিবাচক ও সম্মিলিত প্রভাব তৈরি করতে পারে।

অন্যান্য কর্মসূচি

পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি, ডিবিএল গ্রুপ Zero Discharge of Hazardous Chemicals (ZDHC) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জৈবিক Effluent Treatment Plants (ETPs)-এ পরিশোধনের পর যে বর্জ্য পানি নির্গত হয়, তার গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। H&M এবং অন্যান্য ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে একটি যৌথ অঙ্গীকারে যুক্ত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ২০২০ সালের মধ্যে শিল্প খাতকে শূন্য বিপজ্জনক রাসায়নিক নির্গমনের (zero discharge of hazardous chemicals) দিকে এগিয়ে নেওয়া।

গার্মেন্টস উৎপাদন ইউনিটগুলোর মধ্যে Sustainable Action and Vision for a better Environment (SAVE) নামক একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, যা DEG ও Puma-এর যৌথ অর্থায়নে এবং H&M ও ASSIST-এর অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২২,৯২৭ ঘনমিটার পানি, ৩৫১,১৮৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং ৮,০০০ কিলোগ্রাম বর্জ্য সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

 

এসডিজি (SDGs)-এর সাথে সংযোগ

ডিবিএল-এর পানি সাশ্রয়ী কার্যক্রম একাধিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals - SDGs)-এ অবদান রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে: পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য পানির নির্গমন হ্রাস, কমিউনিটির জন্য পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং পরিশোধিত বর্জ্য পানি নির্গমন কমানো

Screenshot 2024-12-10 at 12.00.47.png

উপসংহার

পানি জীবনের মূল ভিত্তি। ডিবিএল ধারাবাহিক উন্নয়নে বিশ্বাস করে এবং বিভিন্ন অংশীজনের (stakeholders) সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করা ও তাদের কাছ থেকে শেখার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়। এই উদ্যোগ ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে ডিবিএল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে চায়। আমেরিকান সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী, অভিযাত্রী, লেখক ও বক্তা সিলভিয়া আর্ল বলেছেন—

“পানি না থাকলে জীবন নেই। নীল না থাকলে সবুজও নেই।”

সংস্থাটির পরিচিতি

 

বাংলাদেশভিত্তিক একটি বহুমুখী (conglomerate) প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের ব্যবসা বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপারেল, টেক্সটাইল, টেক্সটাইল প্রিন্টিং, ওয়াশিং, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, প্যাকেজিং, সিরামিক টাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রেজিং, রিটেইল এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সেবা। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) Business Call to Action এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাপারেল ও টেক্সটাইল খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর সাথে সুসংগত বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডিবিএল-এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি, যা নিশ্চিত করে যে তাদের কার্যক্রম পরিবেশবান্ধব এবং কমিউনিটি-কেন্দ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে।

JPGSPH logo.png
Hiedelberg University Logo
csm_HIGH_Logopack_FullLogo_Blue_Large_298565a3f2 (1).jpg
EN Co-funded by the EU_POS.jpg

Co-funded by the European Union. Views and opinions expressed are however those of the author(s) only and do not necessarily reflect those of the European Union or the European Education and Culture Executive Agency (EACEA). Neither the European Union nor EACEA can be held responsible for them.

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • LinkedIn
  • Youtube
bottom of page