top of page

লড়ে যাওয়ার গল্পগুলো

Umme Abiha Saima

সাজিদা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত যেসব মানুষের কাছে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি, তাদের জীবনের গল্পগুলো দেখায় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কঠিন সমস্যার মধ্যেও কীভাবে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা আর একতা দিয়ে নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন।

এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই, কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রেক্ষাপটে বসবাসকারী মানুষেরা—বিশেষ করে নারীরা—নিজেদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা আর পারস্পরিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছেন।

তারা প্রকৃতিনির্ভর, জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন—যেমন সারা বছর চাষাবাদেরর জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতী ব্যবহার করা। তারা নিজেরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছেন, যাতে খরার সময় বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলা করা যায়। শুধু নিজেদের ঘর সামলানো নয়—তারা জীবিকার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকেও যুক্ত করছেন, যাতে পরিবার সামগ্রিকভাবে টিকে থাকতে পারে। এই সব উদ্যোগ কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়—গ্রাম বা পাড়ার মানুষজন একসাথে মিলে সম্পদ ভাগাভাগি করছেন, সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদেরকে শুধু টিকে থাকতে নয়, বরং বদলের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এই লেখায় আমরা কয়েকজন নারীর গল্প তুলে ধরছি। তারা দেখিয়েছেন—একসাথে থেকে, একে অপরকে সাহস আর সমর্থন দিয়ে কেমনভাবে জলবায়ুর মতো বড় চ্যালেঞ্জকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায়, একটি টেকসই ও সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে।

 

ক. দুর্যোগের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠা

Screenshot 2024-12-10 at 10.39.14.png

“আমি সবসময় চাইতাম কৃষিকাজ করে আয় করতে। কিন্তু নতুন চাষাবাদের পদ্ধতি না জানার কারণে বারবার ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে আমি সারা বছর ধরে নানা ধরনের ফসল ও মাছ চাষ করতে পারছি।”

 

গবুরা ইউনিয়নের ছোটখাটো একখণ্ড জমিতে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন চল্লিশ বছর বয়সী নারগিস নাহার। স্বামী থাকলেও তাঁর উপস্থিতি যেন না থাকারেই সমান। তার ওপর দুর্যোগপ্রবণ এক অস্থির এলাকা —সব মিলিয়ে সংসার আর জীবিকা দুটোই ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।

বৃষ্টির মৌসুমে নারগিস আমন ধান চাষ করতেন, কিন্তু পুরনো পদ্ধতিতেই। ধানক্ষেতের পাশে ছোট ছোট নালার মতো গর্ত খুঁড়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার চেষ্টা করতেন সেচের জন্য। কিন্তু এত অল্প পানি দিয়ে ফলন ভালো হওয়া তো দূরের কথা, কোনোমতে কিছু ফসল ফলাতেই হিমশিম খেতে হতো। ক্ষুধার জ্বালায় মেয়েদের মুখে ভাত তুলে দিতে মাঝরাতেও বের হতে হতো নারগিসকে— ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে খোলপেতুয়া নদীতে নেমে পড়তেন মাছ ধরতে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার মতো গবুরাও প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। এর ফলে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যায়, আর অনেকটাই চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সেই জমিগুলো (Hossain et al., 2020)। নারগিস আর তাঁর মতো অনেকেই তখন পড়েন নতুন বিপাকে—না মাছ চাষ করা যায়, না ফসল ফলানো যায়। যখন উপার্জনের কোনো নির্ভরযোগ্য পথ থাকে না, তখন জীবনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তো দূরে থাক, সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটাও হারিয়ে যায় (Rahman & Ahmed, 2021)।

এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসে সাজিদা ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির হাত ধরেই নারগিস জানতে পারেন প্রাকৃতিক উপায়নির্ভর জলবায়ু-সহনশীল কৃষিপদ্ধতি (Nature-Based Solutions বা NbS) সম্পর্কে। দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে—এমন ধরনের বীজ ব্যবহার, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পুকুর খনন, আর ফল ও সবজি চাষের জন্য উঁচু আকারে বাঁধ তৈরি—এসব কৌশলে নারগীস এখন আরো মনযোগী। নিজের জমির পুকুর আবার খনন করে তিনি এখন বছরজুড়েই সেখানে পানি জমিয়ে রাখেন, আর সেই পানির সাহায্যে চলে চাষাবাদ আর মাছচাষ (Islam & Hossain, 2022)। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণে শেখা কৌশল কাজে লাগিয়ে এখন শীতকালেও নারগিস আমন ও বোরো—দুই ধরনের ধানই চাষ করতে পারেন (Chowdhury & Hasan, 2022)।

নারগিস নাহার এখন সাজিদা ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির একজন সক্রিয় সদস্য। Nature-Based Solutions (NbS) ভিত্তিক এই উদ্যোগের অধীনে তিনি পেয়েছেন প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা। এখন এই NbS পদ্ধতির মাধ্যমে, নারগিস গবুরার মতো দুর্যোগপ্রবণ এক ভয়াবহ পরিবেশেও সারা বছর ধরে নানা ধরনের ফসল আর মাছ চাষ করতে পারছেন।

নারগিসের বিশ্বাস—এই সাফল্য শুধু তাঁর নিজের নয়; তাঁর মতো আরও অনেক কৃষক এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে নিজেদের ঘরের আয় বাড়াতে পারবেন এবং জলবায়ু সহনশীল আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন (Sarker & Rahman, 2020)।

 

তথ্যপুঞ্জি:

Chowdhury, F., & Hasan, M. (2022). Enhancing agricultural productivity through climate-resilient farming techniques in Bangladesh. Journal of Sustainable Agriculture, 56(1), 123-137.

Hossain, M., Sarker, M. A., & Rahman, S. (2020). Salinity intrusion and its impact on agriculture in coastal Bangladesh. Environmental Research Letters, 15(9), 095006.

Islam, M. S., & Hossain, M. (2022). Nature-Based Solutions and their role in climate-resilient farming. International Journal of Climate Change Strategies and Management, 14(2), 159-174.

Rahman, M., & Ahmed, S. (2021). The socio-economic impacts of climate change on rural livelihoods in Bangladesh. Journal of Rural Development and Policy, 43(3), 88-102.

Sarker, M. A., & Rahman, S. (2020). Small-scale farming innovations for economic resilience in rural Bangladesh. Agricultural Economics Review, 13(2), 45-58.

খ. ভালো জীবনের জন্য বিশুদ্ধ পানি

Screenshot 2025-01-02 at 10.37.26.png

“এই বৃষ্টির পানি ধরে রাখার কারণে এখন আমার পরিবার নিরাপদ পানি পান করতে পারে। আমাকে আর দূরে জল নিতে যেতে হয় না, আর সন্তানদেরও একা ঘরে একা রেখে ঘরে থাকতেও হয় না বলে এখন মন শান্ত।”

 

পঁইত্রিশ বছর বয়সী পেয়ারাবেগম একজন গৃহিণী। তিনি মঙ্গলার উপকূলীয় এক এলাকায় স্বামী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে থাকেন। দিন কী আর রাত কী, পেয়ারাকে প্রতিদিন ১ঘন্টা পায়ে হেটে পরিবারের জন্য পানি আনতে যেতে হতো। সন্তানদের রেখে যেতেন একা ঘরে। 

পানির জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত, আর পানিও পরিষ্কার ছিলো না—ফলে পরিবারটি বারবার পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতো। জীবনের এই অতীব জরুরী বিষয় পানির নিয়ে তাই পেয়ারা বেগম থাকতেন উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত।  

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোর মতো মংলাতেও পানিতে লবণাক্ততা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এখানকার মানুষজন বাধ্য হয়ে সেই লবণাক্ত পানি পান করছেন, যা ধীরে ধীরে তাদের শরীরে নানা রোগ ডেকে আনছে (Islam & Hossain, 2022)। পেয়ারা বেগমও এমন একজন—যার পরিবারে দিনে দিনে দেখা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা, কারণ তাদের হাতে বিশুদ্ধ পানির কোনো উপায় ছিল না (Sarker & Rahman, 2020)।

এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে এসেছে সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম। মংলার মতো এলাকায় তারা বসিয়েছে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে বিশ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংকে। এই প্রথমবারের মতো, পেয়ারা বেগমের পরিবার ও আশেপাশের মানুষজন পেয়েছেন নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা (Hossain et al., 2021)।

তবে শুধু পানি সরবরাহ করেই শেষ নয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠিত হয়েছে স্থানীয় ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট কমিটি, যারা মাসে মাসে বৈঠক করে পুরো ব্যবস্থাপনাটি চালু রাখছে। ‘ফেয়ার ইউসেজ পলিসি’ মেনে পানি ব্যবহারের নিয়ম তৈরি হয়েছে, যেন সবাই সমানভাবে উপকৃত হন এবং কোনো অপচয় না হয় (Rahman & Ahmed, 2021)।

পেয়ারা এখন নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন সাজিদা ফাউন্ডেশন পরিচালিত উঠান বৈঠকে। এই বৈঠকগুলোতে তিনি শিখছেন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং জীবনের নানা জরুরি বিষয়ের কথা (Chowdhury & Hasan, 2021)।

তিনি বলেন,

 

“পানি আনার জন্য দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতো, আর সেই সাথে নিয়মিত ভোগতে হতো     পানিবাহিত রোগে। এখন বাড়ির কাছেই রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম থাকায় আমাকে আর সন্তানদের একা রেখে বের হতে হয় না। এখন আমি তাদের নিরাপদ পানি দিতে পারছি।”

 

তথ্যপুঞ্জি:

Chowdhury, F., & Hasan, M. (2021). The impact of rainwater harvesting systems on rural communities in Bangladesh. Journal of Water Resource Management, 45(3), 219-233.

Hossain, M., Rahman, M., & Akter, S. (2021). Addressing water scarcity and quality issues in coastal Bangladesh through innovative solutions. International Journal of Environmental Science and Technology, 18(4), 989-1002.

Islam, M. S., & Hossain, M. (2022). Enhancing water security in coastal areas through rainwater harvesting and community management. Journal of Climate Change and Water Resources, 29(2), 143-158.

Rahman, M., & Ahmed, S. (2021). Community-based management of water resources in Bangladesh: Lessons from the Rainwater Harvesting Programme. Development Policy Review, 39(1), 75-91.

Sarker, M. A., & Rahman, S. (2020). Health impacts of saline water contamination in coastal Bangladesh: A review. Environmental Health Perspectives, 128(6), 670-679.

গ. একটি সূস্থ্য আগামী 

Screenshot 2025-01-02 at 10.47.10.png

“স্ট্যাটিক ক্লিনিক থেকে আমি শুধু ওষুধই পাইনি, বরং একটি সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপদেশও পেয়েছি।”

— নাজমা বেগম, অংশগ্রহণকারী, ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম

 

বাগেরহাটের কাছাকাছি উপকূলবর্তী গ্রাম শোনাতলায় নাজমা বেগমের জীবনের প্রতিটি ধাপই ছিল সংগ্রামে ভরা।  ছয় ভাইবোনের একটি জেলে পরিবারে জন্ম নেওয়া নাজমা ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিবারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তার বিয়ে হয় মোহাম্মদ সিদ্দিকের সঙ্গে—যিনি নিজেও সমুদ্রনির্ভর জীবিকায় যুক্ত ছিলেন (Rahman & Ahmed, 2021)।

কিন্তু নাজমার জীবনে নতুন করে শুরু হয় আরও এক দুঃসময়। শরীরে শুরু হয় এক ধরনের চর্মরোগ, যার কারণে সারাক্ষণ তীব্র চুলকানি সহ্য করতে হতো তাকে। নাজমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল নাজুক, আর চারপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধাও ছিল না। ফলে এই যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তার (Islam & Hossain, 2022)।

২০২৩ সালে, সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের (CCP) একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবে নাজমা বেগমের জীবনে এক পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি (Climate-Resilient Agriculture) নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ পাওয়ার পাশাপাশি তিনি উপলব্ধি করেন—শুধু জীবিকা নয়, ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য শারীরিক সুস্থতাও জরুরি। একটি উঠান বৈঠকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ করার সময়, সেখানে আলোচিত একটি রোগের সঙ্গে নিজের উপসর্গের মিল খুঁজে পান তিনি (Chowdhury & Hasan, 2021)।

এরপরই সাহস নিয়ে তিনি যান CCP আয়োজিত স্ট্যাটিক ক্লিনিকে। সেখানকার প্রোগ্রাম অফিসার (স্বাস্থ্য) তার সমস্যার গুরুত্ব বুঝে নেন এবং যথাযথ চিকিৎসা দেন (Sarker & Rahman, 2020)।

এরপর নাজমাকে রেফার করা হয় টেলিহেলথ সেবায়, যেখানে তিনি একজন এমবিবিএস ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেন। সেই চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয় করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন—সবকিছুই সাজিদা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে (Hossain et al., 2021)। 

SAJIDA Foundation-এর নিবিড় সহায়তায় নাজমা তার প্রয়োজনীয় ও জরুরী চিকিৎসেবা পান। 

পরবর্তীতে তার বাড়িতে নিয়মিত ফলোআপ ভিজিট হয়, সেখানে তার লক্ষণীয় অগ্রগতি ধরা পড়ে —যা প্রমাণ করে SAJIDA Foundation-এর সার্বিক সহায়তাভিত্তিক পদ্ধতির কার্যকারিতা (Rahman & Ahmed, 2021)।

নাজমা এখন জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবার মিলিত সাহায্যের সফল উদাহরণ, যা তার গ্রামের মানুষকে সুস্থভাবে বাঁচতে অনুপ্রেরণা দেয়। 

 

তথ্যপুঞ্জি: 

Chowdhury, F., & Hasan, M. (2021). Health education and its role in managing chronic conditions in rural Bangladesh. Journal of Rural Health, 37(2), 189-203.

Hossain, M., Rahman, M., & Akter, S. (2021). Telehealth services and their impact on rural healthcare access in Bangladesh. International Journal of Telemedicine and Applications, 2021, 7123404.

Islam, M. S., & Hossain, M. (2022). Addressing healthcare gaps in vulnerable communities through integrated programs. Journal of Global Health, 12(1), 65-78.

Rahman, M., & Ahmed, S. (2021). Integrated health and livelihood interventions in climate-vulnerable areas: A case study. Development Policy Review, 39(3), 123-138.

Sarker, M. A., & Rahman, S. (2020). The role of community health interventions in improving rural healthcare. Journal of Community Health, 45(5), 1024-1033.

ঘ. সংগ্রাম থেকে সাহসী পথচলা

Screenshot 2025-01-02 at 10.50.31.png

“সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম শুধু বীজ আর সরঞ্জাম দেয়নি, বরং কঠিন সমস্যা গুলোকে সুযোগে বদলে দেওয়ার শক্তি দিয়েছে। এখন আমার হাঁস ডিম দেয়, শাকসবজির বাগান ভালো হচ্ছে। এখন আমি স্বপ্ন দেখি আমার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাধীন হবে।”

মর্জিনা ছিলেন ছয় ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকায় বসবাস করত তার পরিবার, যারা সবসময়ই আর্থিক সংকটে ছিল। তাই মর্জিনার পড়াশোনা পঞ্চম শ্রেণিতে শেষ হয়ে যায় এবং মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে, যিনি অটো রিকশা চালান (Khan & Sultana, 2022)।

বিয়ে করার এক বছরের মধ্যেই মর্জিনা তার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে পড়েন এবং শ্বশুরবাড়ির বিভিন্ন সমস্যার  সাথে সাথে আর্থিক সংগ্রামের মুখোমুখি হন। তার স্বামী যখন থেকে অটো-রিকশা চালাতে শুরু করেন, তখন থেকে তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এই সব কষ্টের মাঝে মর্জিনা বয়স কম হওয়ায় এবং দারিদ্র্যের কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হন (Ahmed & Islam, 2021)। ২০২৩ সালে সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম (CCP) মর্জিনার জীবনে আলো এনে দেয়। কুড়িগ্রামের রৌমারী শাখার অংশগ্রহণকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি জলবায়ু-সহনশীল শাকসবজি চাষ, নিজের যত্ন নেওয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কীটনাশক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেন (Hossain & Rahman, 2023)।

প্রশিক্ষণের পর, সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম মর্জিনাকে সাত ধরনের শাকসবজির বীজ, পাঁচ প্রকার ফলের গাছের চারা, কীটনাশক কমানোর জন্য ফ্যারোমোন ট্র্যাপ, এবং হাঁস ও শাকসবজি রক্ষার জন্য জাল দেয়। মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে তার হাঁসগুলো প্রতিদিন ডিম দিতে শুরু করে, যা তার পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিম বিক্রি করায় কিছু আয়ও এনে দেয় (উদ্দিন ও মিয়া, ২০২২)।

পরিবারের আর্থিক উন্নতির জন্য মর্জিনা আরও এগিয়ে যেতে চায়। ডিম বিক্রি থেকে আয় বাড়িয়ে সে একটি ছাগল কেনার পরিকল্পনাও করছে। তার দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন হলো ছোট্ট একটি খামার গড়ে তোলা। তার এই সাফল্য দেখেও তার আশেপাশের অনেক প্রতিবেশী এখন জৈব কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করতে শুরু করেছে, আর রাসায়নিক মুক্ত সার ব্যবহারের কারণে তার ফসল বাজারে এক ধাপ এগিয়ে (খান ও সুলতানা, ২০২২)। 

সাজিদা ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের সাহায্যে মর্জিনা তার সমস্যা মোকাবেলা করে শক্তিশালী হয়েছেন এবং তার গ্রামবাসীর চোখে এখন তিনি একজন  রোলমডেল।

তথ্যপুঞ্জি:

Ahmed, S., & Islam, M. (2021). Addressing the impacts of poverty on health and education in rural Bangladesh. Journal of Rural Development, 39(1), 112-127.

Hossain, M., & Rahman, M. (2023). The effectiveness of climate-resilient farming practices in Bangladesh: A case study of SAJIDA Foundation's interventions. Agricultural Systems, 195, 103304.

 

Khan, R., & Sultana, S. (2022). The role of community-based programs in alleviating poverty and promoting sustainable agriculture. International Journal of Sustainable Development, 15(4), 45-60.

 

Uddin, M. N., & Mia, M. A. (2022). Impact of integrated farming systems on rural livelihoods in Bangladesh. Journal of Environmental Management, 301, 113865.

 

প্রতিষ্ঠান পরিচিতি:
সাজিদা ফাউন্ডেশন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘স্বাস্থ্য, সুখ এবং মর্যাদা—সবার জন্য’ এই দর্শনকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে চলেছে। সাজিদা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, টেকসই সমাজ গঠনের জন্য দরকার মানুষের ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সহায়তা করা, ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিকাশ।

বাংলাদেশজুড়ে বহুমুখী উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাজিদা ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যেই ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া এনে দিয়েছে। এর কাজের পরিসর জুড়ে রয়েছে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ। দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, সাজিদা ফাউন্ডেশন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছে।

JPGSPH logo.png
Hiedelberg University Logo
csm_HIGH_Logopack_FullLogo_Blue_Large_298565a3f2 (1).jpg
EN Co-funded by the EU_POS.jpg

Co-funded by the European Union. Views and opinions expressed are however those of the author(s) only and do not necessarily reflect those of the European Union or the European Education and Culture Executive Agency (EACEA). Neither the European Union nor EACEA can be held responsible for them.

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • LinkedIn
  • Youtube
bottom of page